পটুয়খালীর কলাপড়ায় মহামারী আকার ধারণ করেছে গরুর ক্ষুরা ও লাম্পি স্কিন রোগ। একই সাথে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন স্বল্পতা। ফলে খামারি ও কৃষকদের মাঝে বেড়েছে চরম উদ্বেগ। বর্তমানে পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গরুর এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ করে লাম্পি স্কিন ও ক্ষুরারোগের প্রাদুর্ভাবে প্রানিসম্পদ খাত হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা ।
উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস জানান, গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ও ক্ষুরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন খামারী ও কৃষক এই রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের তথ্যমতে এ উপজেলায় ৫০০০ খামারী এবং প্রায় ২ লাখ গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদের পূর্ব মুহুর্তে এসব গরুর এ রোগ দেখা দেয়। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন কৃষক ও খামারীরা।
তাদের ভাষ্য মতে, ক্ষুরারোগ ও লাম্পি স্কিন
আক্রান্ত গরুর মুখ জিহ্বা ও পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে খাদ্য খেতে পাড়ছেনা। এর করনে অনেকটা গরু দর্বল হয়ে চলাফেরায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে একটি গরু আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে অন্য গরুগুলোর মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
মহিপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান জানান, তিনি ও তার ছোট ভাই কোরবানির জন্য বাজার থেকে একটি গরু ক্রয় করেন। কিন্তু ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হাওয়ায় সেই গরু কোরবানি করতে পারেনি তিনি।
টিয়াখালীর ইউনিয়নের কৃষক মোকলেছ বলেন, তার মোট ৫ টি গরু। প্রথমে একটি গরু ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে একের পর এক সবগুলোই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কোন উপায় না পেয়ে সে গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এখনও গরুগুলো সুস্থ করতে পারেনি। তার মতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ ক্ষুরারোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মারুফ বিল্লাহ খান ভ্যাকসিনের স্বল্পতা স্বীকার করে বলেন, লাম্পি স্কিন ও ক্ষুরারোগে আক্রান্ত পশুগুলোকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি খামারিদের সতর্ক থাকরা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । তাদের খামার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
উত্তম কুমার হাওলাদার কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
পটুয়াখালী,বুধবার ১০ জুন এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




















